ফিঙ্গারপ্রিন্টস অফ অথেন্টিসিটি (পরবর্তী অংশ)

✍🏻 Joseph Abraham Islam
Admin of quransmessage.com

original post: https://quran-islambd.com/fingerprints-of-authenticity/

সবাইকে শুভেচ্ছা,

আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক।

আপনাদের মূল্যবান মতামত ও ব্যক্তিগত ভাবনাগুলো শেয়ার করার জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ। হ্যাঁ, আপনাদের প্রশ্নের সুস্পষ্ট উত্তর দিতে গেলে বলতে হয়—আগের পোস্টে উল্লেখ করা সেই সমালোচক আমি নিজেই ছিলাম। আমার দীর্ঘ পড়াশোনা ও জীবনের এক সুদীর্ঘ পথপরিক্রমায় গভীর চিন্তাভাবনার পর, আমার বিবেকের ওপর কুরআনের ক্রমাগত ও অকাট্য আঘাতের কাছে আমি শেষ পর্যন্ত সম্পূর্ণরূপে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়েছিলাম।

এটি আমার অনেকদিনের ইচ্ছা যে, এই পোস্টের শিরোনামেই আমি একটি বই লিখব; যেখানে এমন অসংখ্য আয়াত এবং যুক্তির দৃষ্টান্ত থাকবে, যা আমাকে শেষ পর্যন্ত পরিপূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করেছিল। আল্লাহ যদি চান এবং এই পৃথিবীতে আমাকে পর্যাপ্ত হায়াত দান করেন, তবে হয়তো এই ইচ্ছা একদিন পূরণ হবে। আমি তো আমার ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা অজস্র ভাবনার সমুদ্র থেকে কেবল গুটিকয়েক উদাহরণ আপনাদের সামনে তুলে ধরেছিলাম (আর এ কারণেই আমার এই রূপান্তরের জার্নিটা নিয়ে একটা বই লেখার কথা মাথায় এসেছিল)।

আমার এই পরিবর্তনের পেছনে বহু কারণ থাকলেও, নিশ্চিতভাবেই মানব রচিত ইতিহাসের সেই অতিমানবীয় রূপের বিপরীতে কুরআন যেভাবে নবীর মানবিক দুর্বলতা ও নাজুকতাকে ফুটিয়ে তুলেছে—তার মাঝেই আমি কুরআনের ঐশী বাণী হওয়ার অকাট্য প্রমাণ খুঁজে পেয়েছি।

আচ্ছা ভাবুন তো, কোনো মিথ্যা নবী কি একটি মনগড়া কিতাব রচনা করার সময় ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিজের মনের সংশয় ও দ্বিধা-দ্বন্দ্বের কথাগুলো (যেমন: ৭:২; ৩২:২৩; ১০:৯৪-৯৫; ১৬:৪৩; ২১:৭ আয়াতে) এভাবে লিপিবদ্ধ করে যেতেন? যেখানে আবার স্বয়ং সৃষ্টিকর্তা নিজেই তাকে সান্ত্বনা ও আশ্বাসের বাণী শোনাচ্ছেন! আমি প্রায়ই নিজেকে প্রশ্ন করতাম—আসলে কেমন প্রাচীন ধর্মগ্রন্থ এটি, আর এই মানুষটির মনেই বা তখন কী চলছিল?

যেমনটি একজন পশ্চিমা ইসলামবিশারদ উল্লেখ করেছেন:

“এমন বেশ কিছু আয়াত রয়েছে যেখানে নবীকে সান্ত্বনা ও অভয় দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ৫২:২৯; ৬৮:২-৭ এবং ৪৮-৫০; ৭০:৫-৭; ৭৯:৪২-৪৬; ৮৮:২১-২৬; ৯৩:৩-৮; ৯৪:১-৬; এবং ১০৮:১ ও ৩ নম্বর আয়াত। এই আয়াতগুলোতে মূলত প্রতিপক্ষের করা কষ্টদায়ক মন্তব্যগুলো যে মিথ্যা, তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে (৫২:২৯; ৬৮:২ ও ৪; ৯৩:৩; ১০৮:৩), এছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন প্রতিশ্রুতি (৬৮:৩; ৯৩:৪-৫; ৯৪:৫-৬), আল্লাহর নেয়ামত ও অনুগ্রহের স্মরণিকা (৯৩:৬-৮; ৯৪:১-৪; ১০৮:১), সেই সাথে এই আশ্বাস যে তাঁর একমাত্র দায়িত্ব হলো পৌঁছে দেওয়া (৭৯:৪২-৪৬; ৮৮:২১-২৬), আরও আছে ধৈর্যের উপদেশ (৬৮:৪৮-৫০; ৭০:৫-৭) ও অবিশ্বাসীদের সাথে আল্লাহ কেমন আচরণ করেন তা দেখার আহ্বান (৬৮:৫-৭; ৯৬:৮)।” [১]

এই দাবি মেনে নেওয়া সত্যিই কষ্টকর যে—“একজন প্রতারক নবী একটি মিথ্যা কিতাব লিখে একটি শত্রুভাবাপন্ন সমাজকে নিজের নবুয়তের ব্যাপারে আশ্বস্ত করার চেষ্টা করছেন, অথচ সেই কিতাবের মধ্যেই নিজের এমন নাজুক ও দুর্বল মুহূর্তের সংলাপগুলো ধরে রাখছেন।”

বহু বছর পেরিয়ে যাওয়ার পরও, আজও নিচের এই আয়াতটি আমার শরীরে কাঁটা দেয় এবং হৃদয়ের গভীরে প্রতিধ্বনিত হয়। শেষ পর্যন্ত আমি এর সাথে নিজেকে মেলাতে পেরেছিলাম:

[১০:৯৪-৯৫] “…অতএব, তুমি কখনোই সংশয়কারীদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না। এবং তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে প্রত্যাখ্যান করেছে; তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে পড়বে।”

—এই সতর্কবার্তাটি দেওয়া হয়েছিল স্বয়ং নবী মুহাম্মদকে!

তখনো নিজেকে যে প্রশ্নটা করতাম, আজও তা-ই করি—মনগড়া কিতাব রচনাকারী কোনো প্রতারক নবী কি আসলেই এমন এক আখ্যান ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সযত্নে সংরক্ষণ করে যেতেন? নাকি এটি কোনো এক উচ্চতর সত্তার কথা, যিনি তাঁর অসীম প্রজ্ঞায় জানতেন যে এই যুক্তিগুলোই আমার মতো কট্টর সমালোচক আর পাপী আত্মাদের মনে তীব্রভাবে নাড়া দেবে?

আমি আগেও বলেছি, এই কিতাব যদি সমুদ্রের তলদেশেও পাওয়া যেত, তাতেও আমার কিছু আসত-যেত না। প্রথাগত অনুসারীদের ‘দাবিকৃত’ সংরক্ষণের ইতিহাস পড়ে নয়, বরং কুরআনের বহুমুখী যুক্তি আর স্তরে স্তরে সাজানো প্রজ্ঞার মহাসমুদ্র দেখেই একজন মানুষ এই কিতাবের সত্যতার বিষয়টি উপলব্ধি করে।

কুরআনের পথনির্দেশ নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করা এবং সাধ্যমতো এর সত্যের বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেয়ে জীবনের আর কোনো মহৎ উদ্দেশ্য আমি খুঁজে পাই না। আল্লাহ আমাকে তাওফিক দান করুন, যদি তিনি চান।

রেফারেন্স
[১] রবিনসন, এন., Discovering the Quran, A Contemporary Approach to a Veiled Text, দ্বিতীয় সংস্করণ, SCM Press, তৃতীয় খণ্ড: রূপতত্ত্ব, কাঠামো ও সামঞ্জস্য, অধ্যায় ৬: ‘প্রাথমিক মাক্কী’ সূরাসমূহের রূপগত উপাদান, পরিচ্ছেদ ৬.১০: রাসূল সংক্রান্ত অংশ, পৃষ্ঠা ১২১।