নবী মুহাম্মদ কি নিরক্ষর ছিলেন?

এই পোস্টে নবী মুহাম্মদের ওপর হাদিসপন্থীদের দেওয়া একটি অপবাদ – যে তিনি নিরক্ষর ছিলেন তা খন্ডন করা হয়েছে।

[ ৭:১৫৭] “যারা অনুসরণ করে রাসুলের, যে উম্মী নবী, যার কথা তারা তাদের তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পায়।……”

এই আয়াতে উম্মী শব্দের অর্থ দাড় করানো হয় নিরক্ষর।অথচ, কুরানে আরও বহু জায়াগায় ‘উম্মী’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে এবং আর কোনো ক্ষেত্রেই ‘উম্মী’ শব্দের অর্থ ‘নিরক্ষর’ করা যুক্তিযুক্ত হয় না। যদি অন্যান্য আয়াতে উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর করা হয় তাহলে, আয়াতগুলোর আর কোনো ভালো মিনিং থাকে না।

উম্মী শব্দের অ্যাকুরেট অনুবাদ হয় ‘এমন কেউ যাকে ইতঃপূর্বে আসমানী কিতাবের জ্ঞান দেওয়া হয়নি’।

এবার, অন্যান্য আয়াতে উম্মী শব্দের কোন অনুবাদটি অধিকতর অর্থবহ হয় তা দেখে নেয়া যাক।

[৩:২০] “যাদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে এবং যারা উম্মী তাদেরকে বলো ‘তোমরা কি সমর্পণ করেছো’?”

ইহুদি-খ্রিস্টানদেরকে কিতাব দেওয়া হয়েছে। তাহলে এখানে উম্মী শব্দের অর্থ ‘অশিক্ষিত’ করা মানায় না। এই আয়াতের প্রেক্ষাপটে উম্মীয়ুন শব্দের অ্যাকুরেট অর্থ হয় ‘যাদেরকে ইত:পূর্বে কিতাব দেয়া হয়নি।’

[৬২:২] “তিনিই উম্মীদের মাঝে একজন রাসুল পাঠিয়েছে, তাদের মধ্য থেকেই।……”

এই আয়াতে উম্মী শব্দের অর্থ নিরক্ষর করলে, দাড়ায় যে নবী মুহাম্মদকে কেবল অশিক্ষিতদের জন্য পাঠানো হয়েছে!

অথচ এই আয়াতের প্রেক্ষিতে উম্মী শব্দের প্রকৃত অর্থ হয় ‘এমন জাতি যাদের কাছে কিতাবের কোনো জ্ঞান ছিল না।’

[২:৭৮] “আর তাদের মাঝে আছে ‘উম্মীয়ুন’, যারা কিতাবের কোনো জ্ঞান রাখে না……..”

এই আয়াতে স্পষ্টভাবেই আল্লাহ বুঝিয়ে দিয়েছেন উম্মী কাদেরকে বলা হয়। ঠিক এর পরের আয়াতেই বলা আছে,

“সুতরাং ধ্বংস তাদের জন্য যারা নিজ হাতে কিতাব লিখে।” [২:৭৯]

উম্মী মানে যদি নিরক্ষর হয় তাহলে এখানে নিজ হাতে কিতাব লেখার কথা আসলো কোত্থেকে?

আরেকটি আয়াত থেকেও ‘উম্মী নবী’ কথাটির প্রকৃত ব্যখ্যা পাওয়া যায়:

[৪২:৫২] “(হে মুহাম্মদ) তুমি জানতে না কিতাব কী এবং ঈমান কী….”

অনেকে নিম্নোক্ত আয়াত থেকেও নবীকে নিরক্ষর প্রমাণের চেষ্টা করে:

[২৯:৪৮] “আর তুমিতো এর পূর্বে কোনো কিতাব পাঠ করনি এবং ডান হাতে তা লিখওনি, এমন হলে বাতিলপন্থীরা সন্দেহপোষণ করতো।”

তারা মনে করে, এখানে ডান হাত দ্বারা কুরআন না লিখার কথা বোঝানো হয়েছে। অর্থাৎ নবী মুহাম্মদ লিখতে পারতেন না। অথচ আয়াতের শুরুতেই বলা আছে ‘এর পূর্বে কোনো কিতাব’……। অর্থাৎ, এই আয়াতের প্রকৃত ব্যখ্যা হলো, নবী মুহাম্মদ কুরানের পূর্বে আর কোনো কিতাব পাঠও করেননি, লিখেনওনি। তাঁর নিকট যদি পূর্বের কিতাবের জ্ঞানই না থাকে তাহলে তিনি তা কীভাবে লিখবেন?

এছাড়াও, সূরা আলাক্ব শুরুই হয়েছে ‘ইক্বরা’ শব্দের দ্বারা। যার অর্থ ‘পড়ো’। আল্লাহ কি এমন কাউকে পড়তে বলবেন যে পড়তেই জানে না? সুরা আলাক্বের ৩নং আয়াতেও ‘ইক্বরা’ শব্দটি আছে।

“পড়ো, আর তোমার রব বড়ই অনুগ্রহশীল। যিনি শিক্ষা দিয়েছেন কলমের সাহায্যে।” [৯৬:৩-৪]

সুরা ফুরকানে বলা আছে, কুরাইশরা এমন অভিযোগ করতো যে নবী মুহাম্মদ অন্যদের থেকে গল্প শুনে শুনে তার থেকে কুরান লিখেছে।

[২৫:৫] “আর তারা বলে, এগুলোতো প্রাচীনযুগের কাহিনী যেগুলো সে লিখেছে আর এগুলোই তাকে সকাল-সন্ধ্যা শোনানো হয়।”

এই আয়াতের ‘ইকতাতাবাহা’ শব্দের অর্থ অধিকাংশ অনুবাদেই করা হয়েছে ‘সে লিখিয়ে নিয়েছে’। অথচ ‘ইকতাতাবাহা’ শব্দের অধিকতর শুদ্ধ অনুবাদ হয় ‘সে (নিজে) লিখেছে’। হতে পারে নবীকে নিরক্ষর সাবিত করার জন্য ইচ্ছাকৃতভাবে হাদিসবাদীরা এমন করেছে। কারণ ‘সে (নিজে) লিখেছে’ এমন অনুবাদ করলেতো এটাই প্রমাণিত হয় যে কুরাইশরা জানতো মুহাম্মদ লিখতে পারে। এছাড়াও, এমন কাউকে গল্প শুনিয়ে কি লাভ যে লিখতেই পারে না?

একজন প্রকৃত মুসলিমের জন্য শুধু কুরানের এভিডেন্সই যথেষ্ট। এরপরও নিচে কিছু হাদিসের রেফারেন্স দেওয়া হলো যেগুলো স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে নবী মুহাম্মদ লিখেছেন এবং লিখতে পারতেন।

বুখারী হাদিস নং: ৬৫, ১১৪, ৪৪৩১, ৪৪৩২, ৫৬৬৯
মুসলিম হাদিস নং: ৪১২৬, ১৭৭৪