কুরআন কি ধাপে ধাপে মদ নিষিদ্ধ করেছে?

অনেকে মনে করেন কুরআনে মদ সরাসরি নিষিদ্ধ নয়, বরং নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। আবার কেউ কেউ মনে করেন এটি ধাপে ধাপে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু কুরআনের আয়াতগুলো ভালোভাবে বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মাদক সেবন আল্লাহ সরাসরি এবং একবারেই হারাম ঘোষণা করেছেন।

১. (কুরআন ৭:৩৩)
“বল,‘আমার রব তো হারাম করেছেন অশ্লীল কাজ- যা প্রকাশ্য এবং যা গোপন, আর পাপ ও অন্যায়ভাবে সীমালঙ্ঘন।”

২. (কুরআন ২:২১৯)
“তারা তোমাকে মদ ও জুয়া সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে। বল, এ দু’টোয় রয়েছে গুরুতর পাপ ও মানুষের জন্য উপকার। আর তার পাপ তার উপকারিতার চেয়ে অধিক বড়।”

সিদ্ধান্ত: যেহেতু আল্লাহ সব ধরনের ‘পাপ’ নিষিদ্ধ করেছেন এবং মাদকদ্রব্যের মধ্যে গুরুতর ‘পাপ’ বিদ্যমান, তাই নেশার উদ্দেশ্যে মাদক ব্যবহার করা সরাসরি নিষিদ্ধ বা হারাম।

তবে চিকিৎসাক্ষেত্রে, অস্ত্রোপচারে বা জীবাণুনাশক হিসেবে মাদকের অ্যালকোহল ব্যবহার এই নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে, কারণ ২:২১৯ আয়াতে এর ‘উপকারের’ কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। ৫:৯১ আয়াতে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, শয়তান মাদকের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে শত্রুতা ও ঘৃণা ছড়ায় এবং আল্লাহর স্মরণ থেকে বিমুখ করে।

অনেকে এই আয়াতটি দেখিয়ে দাবি করেন যে মদ হারাম নয়:

“হে মুমিনগণ, তোমরা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা যা বলছ তা বুঝতে পার।” (৪:৪৩)

তাদের দাবি হলো এই আয়াত কেবল সালাতের সময় মদ পান নিষিদ্ধ করে। কিন্তু প্রকৃত অর্থ তা নয়। কুরআন অনুযায়ী, একজন খুনি বা ব্যভিচারীও সালাত পড়তে বাধ্য, কিন্তু নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি নয়। কারণ নেশা করলে মানুষ কী বলছে তা বুঝতে পারে না, ফলে ইবাদত অর্থহীন হয়ে পড়ে। সালাত সময় নেশাগ্রস্ত হওয়া নিষিদ্ধ করার অর্থ এই নয় যে অন্য সময় তা বৈধ।

আল্লাহ বলেন:

“হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া, মূর্তিপূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ধারক তীর তো কেবল ঘৃণার বস্তু, শয়তানের কাজ। কাজেই তোমরা তাকে(ইজতানিবুহু) বর্জন কর –যাতে তোমরা সফলকাম হতে পার ” (৫:৯০)

এখানে ‘ইজতানিবুহু’ শব্দটি একবচন। এটি মূলত শয়তানকে নির্দেশ করছে। অর্থাৎ, মদ ও জুয়ার মতো অপবিত্র কাজগুলো শয়তানের কাজ, তাই সফল হতে হলে শয়তানকে বর্জন করতে হবে। যারা মনে করেন এটি কেবল ‘পরিহার’ করতে বলা হয়েছে (হারাম নয়), তারা ভুল করছেন, কারণ একই আয়াতে মূর্তিপূজা ও জুয়ার কথাও বলা হয়েছে যেগুলোকে কেউ স্রেফ ‘নিরুৎসাহিত’ কাজ মনে করে না।