ব্যভিচারের শাস্তি

কুরানে কি ব্যভিচারের শাস্তির বিধান বর্ণিত আছে?

  • হ্যাঁ

কুরানে বর্ণিত ব্যভিচারের শাস্তি কী?

  • ৪জন সাক্ষীসহ আপরাধ প্রমাণিত হলে নারী ও পুরুষকে উভয়কে ১০০ বেত্রাঘাত (২৪:২, ২৪:৪, ২৪:১৩)

কুরানে কাউকে ব্যভিচারের মিথ্যা অপবাদ দেয়ার শাস্তি কী?

  • ৮০ বেত্রাঘাত এবং তার সাক্ষ্য আর কখনো গ্রহণ করা হবে না (২৪:৪) যদি না সে তওবা করে এবং ফিরে আসে (২৪:৫)

কুরানে কি ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার কথা বলা আছে?

  • না

কুরানে কি অন্যকোনো অপরাধের জন্য পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান বর্ণিত আছে?

  • না

তাহলে কুরান পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার ব্যাপারে কী বলে?

  • কুরান বলে মুশরিকরা এই রীতি পালন করতো ঈমানদার এবং নবীদের হত্যা করার জন্য (১১:৯১, ১৮:২০, ১৯:৪৬, ২৬:১১৬, ৩৬:১৮)

ব্যভিচারের শাস্তি হিসেবে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যার বিধান কোথায় পাওয়া যায়?

  • হাদিস এবং ইসলামের দ্বিতীয় উৎসগুলোতে

কুরানে রজম সম্পর্কিত কোনো আয়াত নেই কেন?

  • কুরানে এমন একটি আয়াত ছিল, কিন্তু পরবর্তীতে তা হারিয়ে যায়

কীভাবে হারিয়ে যায়?

  • ছাগলে খেয়ে ফেলেছে

হারিয়ে যাওয়া আয়াতের ব্যাপারে হাদিসে কী বলা আছে?

  • হাদিস বলে ব্যভিচারিকে পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা এবং প্রাপ্তবয়স্ক লোককে দশঢোক বুকের দুধ পান করিয়ে মাহরাম বানানোর বিধান দিয়ে আয়াত নাজিল হয়। আয়াতগুলো আয়েশা (রাঃ) এর বালিশের নিচে রাখা ছিল। নবীর মৃত্যুর পর একটি ছাগল এসে তা খেয়ে ফেলে (ইবনে মাজাহ:১৯৪৪)
  • অন্য হাদিসে বলা আছে, প্রথমে অবতীর্ণ দশবার স্তন্যপানের আয়াত রহিত করে দিয়ে, পরবর্তীতে পাঁচবার স্তন্যপান করিয়ে মাহরাম বানানোর একটি আয়াত নাজিল হয় (মুসলিম: ৩৪৮৯,৩৪৯০)। কিন্তু কুরানে উভয় আয়াতের একটিও খুঁজে পাওয়া যায় না।

কুরান কি বলে কুরান থেকে কোনো আয়াত হারিয়ে গেছে?

  • না, কুরান বলে কুরানে প্রতিটি বিষয় সুস্পষ্ট এবং বিস্তারিতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে (১৬:৮৯, ৬:১১৪) এবং মুমিনদের পথনির্দেশের জন্য কুরান যথেষ্ট (৭:৫২)

হাদিস এবং ইসলামের দ্বিতীয় উৎসগুলো থেকে দাবি করা হয় কুরান থেকে অনেক আয়াত হারিয়ে গেছে। যেমন রজম বা পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ডের আয়াতটি। কিন্তু রজমের আয়াত যে কখনোই কুরানের অংশ ছিল না তা নিম্নোক্ত আয়াত থেকে প্রমাণিত হয়:
[০৪:২৫](অংশ…)
“তোমাদের মধ্যে যারা স্বাধীন মুসলিম নারীদের বিবাহ করার সামর্থ্য রাখে না, তারা ঈমানদার দাসীদের মধ্য থেকে যারা তোমাদের ডান হাতের অধিকারভুক্ত তাদের বিয়ে করবে।……………অতঃপর যখন তারা বিবাহিত হবে তখন যদি ব্যভিচারে লিপ্ত হয় তাহলে তাদের শাস্তি হবে স্বাধীন নারীর অর্ধেক।“

উক্ত আয়াত থেকে আমরা দেখতে পাই, একই অপরাধের জন্য ডান হস্ত মালিকানাধীন নারীর শাস্তি হবে স্বাধীন নারীর অর্ধেক। তাহলে প্রশ্ন হলো, ব্যভিচারের জন্য বিবাহিত স্বাধীন নারীর শাস্তি যদি হয় পাথর নিক্ষেপ করে মৃত্যুদণ্ড, তবে বিবাহিত দাসীকে অর্ধেক মৃত্যুদণ্ড দেয়া কীভাবে সম্ভব? সুতরাং, এই কথা পরিষ্কার যে কুরান কখনো রজমের বিধান দেয়নি এবং কুরানের অংশ হিসেবে কখনো এর অস্তিত্ব ছিল না।