[৬২:০৯] হে মু’মিনগণ! জুমু’আর দিন যখন সালাতের জন্য আহ্বান করা হয় তখন তোমরা আল্লাহর স্মরণে ধাবিত হও এবং ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর; এটাই তোমাদের জন্য শ্রেয়, যদি তোমরা উপলদ্ধি কর।
[৬২:১০] সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে ও আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে যাতে তোমরা সফলকাম হও।
জুমু‘আর সালাত কি জামাআতে আদায় করতে হয়?
‘জুমু‘আ’ শব্দের অর্থই হলো ‘সমাবেশ’ বা ‘একত্রিত হওয়া’। এছাড়াও ৬২:১০ নম্বর আয়াতে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ শব্দ রয়েছে যা নিশ্চিত করে যে এই সালাত জামাআতের সাথেই আদায় করতে হবে। শব্দটি হলো ‘ইনতাশিরু’ যার অর্থ ‘ছড়িয়ে পড়ো’ বা ‘বিক্ষিপ্ত হয়ে যাও’।
“সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে……”
‘ইনতাশিরু’ বলার অর্থ এটাই যে, ঐ স্থানে একটি সমাবেশ বা দল আছে, যারা সালাত শেষে যমীনে ছড়িয়ে পড়বে। একজন মানুষ তো আর একা একা ছড়িয়ে পড়তে পারে না।
হজ্জ জীবনে একবার ও রোজা বছরে এক মাস—এই ইবাদতগুলো সহজেই জামাআতে পালন করা যায়। কিন্তু সালাত প্রতি দিনে তিনবার। প্রতিদিনই তিনবার জামাআতে সালাত আদায় করা বাধ্যতামূলক করা হলে তা মুমিনদের জন্য অসুবিধাজনক হয়ে যেত। তাই আল্লাহ পুরো সপ্তাহে মাত্র একটি সালাতকে জামাআতে আদায় করা বাধ্যতামূলক করে দিয়েছেন।
জুমু‘আর দিনটি আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত একটি দিন মাত্র। আল্লাহ চাইলে সোমবার, মঙ্গলবার বা অন্য যেকোনো দিনও নির্ধারণ করতে পারতেন। জুমু‘আর দিনে সালাত আদায়ের জন্য অন্য কোনো দিনের তুলনায় অতিরিক্ত কোনো ফযিলত নেই।
জুমু’আর সালাত কি কোনো অতিরিক্ত সালাত, নাকি কুরআনে উল্লেখিত তিনটি সালাতের একটি?
এখানে দুটি বাক্য খেয়াল করুন:
ক. কুরআনে উল্লিখিত বাক্য: “যখন জুমু‘আর দিনে সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়”
খ. সাধারণত যেটি আমরা বলি (যা কুরআনে নেই): “যখন জুমু‘আর সালাতের জন্য আহ্বান করা হয়”
কুরআনে আল্লাহ খুব সতর্কতার সাথে “জুমু‘আর দিনের সালাত” বলেছেন, “জুমু‘আর সালাত” বলেননি।
এর অর্থ হলো—‘জুমু‘আর সালাত’ নামে আলাদা কিছু নেই। বরং এটি ইতঃপূর্বে নির্ধারিত তিনটি সালাতেরই একটি, যেটি শুধু জুমু‘আর দিনে আদায় করতে হয়।
তিনটি সালাতের মধ্যে কোনটি জুমু‘আর দিনের সালাত?
সূরা জুমুআর আয়াত ৯-১০ এর আরও কিছু শব্দ দ্বারা নিশ্চিত হওয়া যে, এই সালাত হলো সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী সালাত), ফজর বা ইশা নয়।
১. “…জুমু’আর দিন যখন সালাতের জন্য আহবান করা হয় ……তখন ক্রয়-বিক্রয় ত্যাগ কর” — এই কথাটির দ্বারা ফজরের সালাত প্রসঙ্গ থেকে বাদ হয়ে যায়। কেননা ফজরের সময় সাধারণত কেউ ক্রয়-বিক্রয়ে ব্যস্ত থাকে না যে তা ছেড়ে দিতে হবে।
২. “সালাত সমাপ্ত হলে তোমরা পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়বে এবং আল্লাহর অনুগ্রহ সন্ধান করবে” — এই কথাটি ইশার সালাতকে বাদ দেয়। কেননা ইশার সালাত শেষে অধিকাংশ মানুষ আর কাজে বা ব্যবসায়ে ফিরে যায় না।
উপরন্তু আল্লাহ বলেছেন রাত হলো বিশ্রামের জন্য। কাজের জন্য নয়।
[১০:৬৭] তিনিই তোমাদের জন্য রাতকে সৃষ্টি করেছেন, যেন তোমরা তাতে বিশ্রাম নাও……
তিনটি সালাতের মধ্যে মধ্যবর্তী সালাত (সালাতুল উসতা) জামাআতে আদায় করার জন্য সবচেয়ে সুবিধাজনক। দিনের মাঝামাঝি সময়ে লোকজনের পক্ষে মসজিদে একত্রিত হওয়া ফজর বা ইশার তুলনায় অনেক বেশি সহজ।
সুতরাং, কুরআনে সূরা জুমু‘আ আয়াত ৯-১০ এ যে সালাতের কথা বলা হয়েছে, তা হলো জুমু‘আর দিনের সালাতুল উসতা (মধ্যবর্তী সালাত), যা জামাআতের সাথে আদায় করা বাধ্যতামূলক।