[সুরা ইয়াসিন ৩৬:৫১-৫২]
“আর যখন শিঙ্গায় ফুঁক দেওয়া হবে, তৎক্ষণাত তারা কবর থেকে বের হয়ে তাদের রবের দিকে ছুটে আসবে। তারা বলবে, ‘হায় দুর্ভোগ আমাদের, কে আমাদেরকে আমাদের নিদ্রাস্থল থেকে উঠালো?’”
[সূরা জুমার ৩৯:৪২]
“আল্লাহ প্রাণসমূহকে তুলে নেনে তাদের মৃত্যুকালে, আর যারা মরেনি তাদের নিদ্রাকালে। অতঃপর যার জন্য তিনি মৃত্যুর ফায়সালা করেন তার প্রাণ তিনি রেখে দেন এবং অন্যগুলো ফিরিয়ে দেন একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য।”
উপরের দুই আয়াত থেকে এই কথা স্পষ্ট যে মৃত্যু আর নিদ্রা একই জিনিস, পার্থক্য হলো কেবল নিদ্রা একপ্রকার সাময়িক মৃত্যু। অর্থাৎ কবরের জীবন বলতে কোনো কিছু নেই।
কবর বা বারযাখ যেটাই বলেন না কেন, তাতে কোনো প্রকার আজাব দেওয়া হবে এমন কথা কুরান থেকে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। কমন সেন্স থেকেও কবরের আজাবের অযৌক্তিকতা বোঝা যায়। বিচার হওয়ার আগেই কাউকে শাস্তি দেওয়াটা একপ্রকার অবিচার। কারো যদি আগেই শাস্তি হয়ে যায় তাহলে কিয়ামতের দিন তার আর বিচারের কি দরকার?
কবরে কেউ এসে একজনের বিচার ফায়সালা করে যাবে আর আজাব দেওয়া শুরু করবে এমন কথা আল্লাহর হুকুমতের সাথে সাংঘর্ষিক। আল্লাহ কুরানে স্পষ্টভাবে বলে দিয়েছেন যে “তিনি নিজ কর্তৃত্বে কাউকে শরীক করেন না।” [১৮:২৬]
কুরানে আরও বলা আছে, “আর যেদিন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, সেদিন অপরাধীরা কসম করে বলবে যে তারা মুহূর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা বিপথগামী থেকেছে।” [৩০:৫৫]
অর্থাৎ, অবিশ্বাসীদের পরকাল সম্পর্কে কোনো ধারণা না থাকায় তারা মনে করবে তারা কবরে ছিল মাত্র একঘন্টা বা মুহূর্তকালের মতো। কিন্তু বিশ্বাসীরা প্রকৃত ঘটনা বুঝতে পারবে এবং তারা অপরাধীদের লক্ষ্য করে বলবে “তোমরা আল্লাহর বিধান অনুযায়ী পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত অবস্থান করেছ, আর এটিই পুনরুত্থান দিবস।” [৩০:৫৬]
✪ অনেকে সুরা গাফির এর একটি আয়াত দেখিয়ে বারযাখের শাস্তি প্রমাণ করতে চেষ্টা করে। আয়াতটি হলো:
[৪০:৪৬] “তাদেরকে (ফিরাউন সম্প্রদায়কে) সকাল সন্ধ্যা আগুনের সামনে উপস্থাপন করা হয়।”
তাদের ভাষ্য হলো কাউকে যদি সকাল-সন্ধ্যা আগুন দেখানো হয়, তাহলে সেটাও এক প্রকার কঠিন শাস্তি।
কিন্তু কেউ যদি আয়াতের আরবিটি মনোযোগের দিয়ে পড়ে তাহলে বুঝতে পারবে যে এখানে আসলে ফিরাউন সম্প্রদায়কে আগুন দেখানো হচ্ছে না, বরং আগুনকে দেখানো হচ্ছে ফিরাউন সম্প্রদায়। অর্থাৎ, এই ক্ষেত্রে দর্শক হলো আগুন/জাহান্নাম।
অন্যদিকে সুরা কাহফে স্পষ্টভাবে বলা আছে “আর আমি সেদিন (বিচার দিবসে) কাফিরদের সামনে জাহান্নামকে সরাসরি উপস্থাপন করবো।” [১৮:১০০]
অর্থাৎ কাফিররা জাহান্নাম দেখবে কেবল কিয়ামতের দিন, এর আগে নয়।
কুরান থেকে এই কথা চূড়ান্ত যে কবরের আজাব বলতে কিছু নেই। হাদিস সংকলনকালে অনেক ইহুদি আক্বিদা-বিশ্বাস মুসলিমদের মাঝে ঢুকে যায়। কবরের আজাবও ইহুদি ধর্ম থেকে আগত এমন একটি ভ্রান্ত ধারণা যা শুধু কুরান বহির্ভূতই নয়, বরং কুরানের সাথে সাংঘর্ষিকও।