সালাতের ওয়াক্তসংখ্যা

[২:২৩৮]
উচ্চারণ: “হাফিযু আ’লাস- সালাওয়াতি ওয়া সালাতিল উসতা ওয়াকুমু লিল্লাহি ক্বনিতিন”
অর্থ: “তোমরা সালাতসমূহ ও মধ্যবর্তী সালাতের হিফাযত কর এবং আল্লাহর জন্য দাঁড়াও বিনীত হয়ে”

পৃথিবীর অধিকাংশ ভাষায় বচন দুইপ্রকার হলেও আরবি ভাষায় বচন তিন প্রকার:

১. একবচন – সালাত (একটি সালাত)

২. দ্বিবচন – সালাতাইন (দুইটি সালাত)

৩. বহুবচন – সালাওয়াত (তিন বা ততোধিক সালাত)

[২:২৩৮] আয়াতে ‘সালাওয়াত’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে। এর দ্বারা প্রমাণিত হয় দৈনিক সালাতের ওয়াক্ত সংখ্যা তিন বা তিনের অধিক। যারা বলে থাকেন দৈনিক সালাত শুধুমাত্র দুই ওয়াক্ত, তাদের দাবি হলো ‘সালাওয়াত’ শব্দ দ্বারা এখানে জীবনের সকল সালাতকে বোঝানো হয়েছে। তাদের এই দাবি সঠিক নয়। জীবনের সকল সালাতকে কুরআনে সামগ্রিকভাবে ‘আস-সালাত’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। উদাহরণস্বরূপ:

[২:৪৩] “ওয়া আক্বিমু আস-সালাহ ওয়া আতু আয-যাকাহ……”

১. সালাতুল ফজর [২৪:৫৮]
সময়: সূর্যোদয়ের পূর্বে [১১:১১৪]

২. সালাতুল উসতা/ মধ্যবর্তী সালাত [২:২৩৮]
সময়: মধ্য দুপুরের পর থেকে সূর্যাস্তের আগ পর্যন্ত [১৭:৭৮]

৩. সালাতুল ইশা [২৪:৫৮]
সময়: সূর্যাস্তের পর [১১:১১৪]
(যদিও অধিকাংশ লোক অন্ধকার রাতে ইশার নামাজ পড়ে। কিন্তু ‘ইশা’ শব্দের প্রকৃত অর্থ হলো ‘সন্ধ্যা’ বা ‘রাতের প্রথমভাগ’)

সহীহ বুখারী ৫৬৩
‘আবদুল্লাহ আল-মুযানী (রাযি.) থেকে বর্ণিত। নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন, “তোমরা মাগরিবের সালাতের নামের ব্যাপারে বেদুঈনদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ো না।” বর্ণনাকারী বলেন, বেদুঈনরা মাগরিবকে ‘ইশা বলে থাকে।

এই হাদিসটি প্রমাণ করে যে, যখন হাদিসটি লিখা হয়, তখনও কিছু বেদুঈন গোষ্ঠী ‘মাগরিব’ নামের পৃথক একটি সালাতের অস্তিত্ব স্বীকার করতো না। অর্থাৎ, তারা মাগরিবকে ‘ইশা’ নামে ডাকতো (যারা ৩ ওয়াক্ত সালাত পড়ে তারা সন্ধ্যার সালাতকেই ‘ইশা’র সালাত বলে)।

সহীহ বুখারী ১১০৭
ইবনু ‘আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) সফরে যুহর ও ‘আসরের সালাত একত্রে আদায় করতেন এবং মাগরিব ও ‘ইশার সালাত একত্রে আদায় করতেন।

 অর্থাৎ, সফরের সময় নবী তিনটি সময়ে সালাত আদায় করতেন: ফজর, (যুহর+আসর) এবং (মাগরিব+ইশা)। ব্যাপারটি তিন ওয়াক্ত সালাতেরই প্রমাণ বহন করে।

সহীহ মুসলিম ১৫১৩
ইবনে ‘আব্বাস (রাযি.) থেকে বর্ণিত। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ভয় বা সফরের কোনো কারণ ছাড়াই মদিনায় যুহর ও আসর এবং মাগরিব ও ইশা একত্রে আদায় করেছেন।

এই হাদিসটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি প্রমাণ করে যে, কোনো বিশেষ কারণ ছাড়াই নবী একাধিক ওয়াক্তের সালাত একত্রে পড়তেন। এই হাদিসটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দেয় যে তিনি মূলত তিনটি সময়ই সালাতের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন।

১. সকাল, দুপুর এবং সন্ধ্যার প্রার্থনা
“আমি ঈশ্বরকে ডাকব; এবং প্রভু আমাকে রক্ষা করবেন। সন্ধ্যা, সকাল এবং দুপুরে, আমি প্রার্থনা করব এবং উচ্চস্বরে কাঁদব: আর তিনি আমার কণ্ঠস্বর শুনবেন।” (Psalms 55:16-17)

২. দাউদ-এর তিনবার মাথা নত করা
“ডেভিড দক্ষিণ দিকের একটি জায়গা থেকে উঠলেন, এবং মাটিতে উপুড় হয়ে পড়লেন, এবং তিনবার মাথা নত করলেন…” (1 Samuel 20:41)

৩. দানিয়েল-এর তিনবার হাঁটু গেড়ে প্রার্থনা
“দানিয়েল যখন জানতে পারলেন যে দলিলে স্বাক্ষর করা হয়েছে, তখন তিনি তার বাড়িতে ফিরে গেলেন; তার ওপরের ঘরের জানালাগুলো জেরুজালেমের দিকে খোলা ছিল। তিনি দিনে তিনবার হাঁটু গেড়ে বসতেন, এবং তার ঈশ্বরের সামনে প্রার্থনা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করতেন, ঠিক যেমনটি তিনি আগে করতেন।” (Daniel 6:10)

উপরের তিনটি বাইবেলীয় উদ্ধৃতি — বিশেষত Psalms 55:16-17 — কুরআনে বর্ণিত তিন ওয়াক্ত সালাতের সময়ের সাথে সম্পূর্ণ সামঞ্জস্যপূর্ণ।