নবী কি চন্দ্র দ্বিখন্ডিত করেছিলেন?

এই হাদিসের সমর্থনে কুরানের একটি আয়াতও উপস্থাপন করা হয়:
“কিয়ামত আসন্ন, চাঁদ বিদীর্ণ হয়েছে” [৫৪:০১]

প্রথমত,
উক্ত আয়াতের কোথাও চাঁদ ‘দুই’ খন্ডে বিভক্ত হওয়ার কথা বলা নেই। বরং, আয়াতের শেষে ব্যবহৃত ‘শাক্বক্বা’ শব্দটি দ্বারা এখানে চাঁদ ‘বহু খন্ডে বিভক্ত’ হওয়ার ঘটনাকে নির্দেশ করা হয়েছে। অর্থাৎ, এই আয়াতে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের একটি নিদর্শন উল্লেখ করা হয়েছে, যখন চাঁদ চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে।

তাহলে এখানে চাঁদ বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনাকে ভবিষ্যতকালীন ক্রিয়ায় বর্ণনা না করে অতীত কালীন ক্রিয়ায় বর্ণনা করা হলো কেন? এর উত্তর হলো, কুরানে এমন বহু আয়াত রয়েছে যেখানে কিয়ামতের ঘটনাবলীকে অতীতকালীন ক্রিয়ায় বর্ণনায় করা হয়েছে।

“আর, আসমানকে করা হয়েছে উন্মুক্ত, ফলে তা হয়ে গেছে বহু দ্বার বিশিষ্ট। এবং, পর্বতমালাকে করা হয়েছে চলমান, ফলে সেগুলো হয়ে গেছে মরীচিকাবৎ।“ [৭৮:১৯-২০]

সুরা নাবার এই দুই আয়াতে কিয়ামতের সময়ের কিছু ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু আয়াত দুটি আরবিতে সম্পূর্ণ অতীতকালীন ক্রিয়ায় লিখা রয়েছে। যদিও অনুবাদকরা অনুবাদ করার সময় এগুলোকে ভবিষ্যতকালীন ক্রিয়ায় পরিবর্তন করে দিয়েছে। আল্লাহ কেন কিয়ামতের ঘটনাকে অতীতকালে বর্ণনা করেছেন এর কারণটা হয়তো তাদের জানা নেই।

প্রকৃতপক্ষে, আল্লাহর নিকট অতীত বা ভবিষ্যত বলতে আলাদা কিছুর অস্তিত্ব নেই। আল্লাহ-তা’য়ালা সময়ের উর্দ্ধে। অতীত, বর্তমান, ভবিষ্যত সব একই সাথে আল্লাহর নিকট বর্তমান। তাই, কোথাও অতীতকাল, কোথাও ভবিষ্যতকাল ব্যবহার করে আল্লাহ এটাই বুঝিয়েছেন যে তিনি সময়ের আওতাধীন নন।

দ্বিতীয়ত,
কুরআনে একাধিক আয়াতে এটা নিশ্চিত করা হয়েছে যে, নবী মুহাম্মদের ব্যক্তিগত কোনো মুজিযা ছিল না [১৭:৯০-৯৩, ১০:২০ এবং ৬:৩৭]।

অন্যদিকে, কুরআনে পূর্ববর্তী নবীদের অনেক অলৌকিক ঘটনার কথা বর্ণনা করা আছে, যেমন: মুসা(৯ টি মুজিযা), ঈসা(মৃতকে জীবিত করা) ও ইব্রাহিম(পাখিদের টুকরা করে বিভিন্ন পর্বতের উপর রেখে দেওয়া ও সেখান থেকে জীবিত হওয়ার ঘটনা)।

মুহাম্মদেরও যদি এমন কোনো ব্যক্তিগত মুজিযা থাকতো তাহলে সেটিও আল্লাহ কুরানে স্পষ্টভাবেই বলে দিতেন। কিন্তু কুরানে আমরা এমন কিছু দেখতে পাই না।

তৃতীয়ত,
[৫৪:০১] আয়াতটিতে কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ের একটি ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। হাদিসের কিতাবগুলোতে নবীর আগমনকেই কিয়ামতের লক্ষণ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। কিন্তু কুরানে এমন কিছু খুঁজে পাওয়া যায় না। শুধুমাত্র কুরানকে ইসলামি ইলমের উৎস হিসেবে বিবেচনা করলে, এটা পরিষ্কার যে নবী মুহাম্মদের সময়টা কোনোভাবেই কিয়ামতের নিকটবর্তী সময় হওয়া সম্ভব নয়। তাই চন্দ্র বিদীর্ণ হওয়ার ঘটনার সাথে তিনি কোনোভাবেই সম্পৃক্ত থাকতে পারেন না।