“নিশ্চয়ই আল্লাহ তাঁর সাথে শরীক করাকে ক্ষমা করেন না। এছাড়া অন্যান্য অপরাধ যাকে ইচ্ছা ক্ষমা করেন। আর যে ব্যক্তি আল্লাহর সাথে শরীক করে, সে এক মহাপাপ রচনা করে।” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ৪৮)
উপরের আয়াত থেকে মনে হতে পারে শিরক করলে আর কখনোই ক্ষমা পাওয়া যাবে না। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা বনী ইসরাঈল জাতিকে তাদের জঘন্য শিরক করার পরও ক্ষমা করেছিলেন, কারণ তারা তাদের ভুল বুঝতে পেরে অনুতপ্ত হয়েছিল। কুরআনে বলা হয়েছে:
“…এরপর সুস্পষ্ট প্রমাণাদি তাদের কাছে আসার পরও তারা বাছুরকে উপাস্যরূপে গ্রহণ করেছিল। এরপরও আমি তা ক্ষমা করেছিলাম…” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৫৩)
আল্লাহ তায়ালা অত্যন্ত দয়ালু ও ক্ষমাশীল। বান্দা যখন আন্তরিকভাবে অনুতপ্ত হয়ে তাঁর কাছে ফিরে আসে, তখন তিনি সব গুনাহ মাফ করে দেন। সূরা যুমারে আল্লাহ এই অভয়বাণী দিয়েছেন:
“বলুন, হে আমার বান্দাগণ! যারা নিজেদের ওপর অবিচার করেছ, তোমরা আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। নিশ্চয়ই আল্লাহ সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন। তিনি তো অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।” (সূরা আয-যুমার, আয়াত: ৫৩)
তওবা করে আল্লাহর কাছে ফিরে আসার একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা রয়েছে। মৃত্যু যখন শিয়রে চলে আসে কিংবা মৃত্যুর ফেরেশতা চোখের সামনে উপস্থিত হয়, তখন আর তওবা কবুল হয় না। সূরা আন-নিসায় আল্লাহ বলেন:
“আর এমন লোকদের জন্য কোনো ক্ষমা নেই, যারা মন্দ কাজ করতেই থাকে, এমনকি যখন তাদের কারো সামনে মৃত্যু উপস্থিত হয়, তখন সে বলতে থাকে— ‘আমি এখন তওবা করছি’…” (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৮)
উপরোক্ত আয়াতগুলোর আলোকে এই বিষয়টি অত্যন্ত সুষ্পষ্ট যে, শিরক সবচেয়ে ভয়াবহ অপরাধ হলেও মৃত্যুর আগে আন্তরিকভাবে তওবা করলে আল্লাহ শিরকের গুনাহও মাফ করে দেন। বনী ইসরাঈলের বাছুর পূজার পরও ক্ষমা পাওয়ার ঘটনা এবং সূরা যুমারের আয়াত এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ।
কিন্তু সূরা আন-নিসার ৪৮ নং আয়াতে যে শিরক ক্ষমা না করার কথা বলা হয়েছে, সেটি মূলত ওই ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য, যে ব্যক্তি শিরকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকা অবস্থায় তওবা না করেই মৃত্যুবরণ করেছে। এছাড়া কেউ যদি সারাজীবন শিরক বা পাপে লিপ্ত থাকে এবং একেবারে মৃত্যু কণ্ঠাগত হওয়ার পর (যখন আখেরাতের দৃশ্য উন্মোচিত হয়ে যায়) তওবা করে, তবে সূরা আন-নিসার ১৮ নং আয়াত অনুযায়ী আল্লাহ সেই তওবা কবুল করেন না।