[৮৬:৬] “তাকে সৃষ্টি করা হয়েছে এক সবেগে নির্গত তরল থেকে।” (খুলিক্বা মিন মা-ইন দা-ফিক্ব)
[৮৬:৭] “যা মেরুদণ্ড ও পাঁজর-এর মাঝখান থেকে নির্গত হয়।” (ইয়াখরুজু মিম্বাইনিছ ছুলবি ওয়াত্তারা-ইব)
আয়াত দুটি দেখিয়ে অনেকসময় নাস্তিক ও হাদিসপন্থী আলেমরা দাবি করে যে কুরআনে বলা হয়েছে: পুরুষের মেরুদন্ড ও পাঁজরের মধ্য থেকে বীর্য উৎপন্ন হয়।
অথচ আয়াত দুটির কোথাও “বীর্য” শব্দটিই নেই। কুরআনের বিভিন্ন স্থানে বীর্য ও শুক্রবিন্দু বোঝাতে “নুতফাহ” শব্দটি ব্যবহৃত হয়েছে।
[৩৬:৭৭] “মানুষ কি দেখে না যে, আমি তাকে সৃষ্টি করেছি শুক্রবিন্দু (নুতফাহ) থেকে?”
[২৩:১৩] “অতঃপর আমি তাকে শুক্রবিন্দুরূপে (নুতফাহ) এক সুরক্ষিত আধারে (জরায়ু) স্থাপন করি।”
[৭৫:৩৭] “সে কি স্খলিত বীর্যের (মানিয়্যিন) এক বিন্দু (নুতফাহ) ছিল না?”
[৫৩:৪৬] “শুক্রবিন্দু (নুতফাহ) থেকে, যখন তা স্খলিত (তুমনা) হয়।”
অন্যদিকে, সূরা তারিকের ৮৬:৬ আয়াতে ব্যবহৃত শব্দটি হলো ‘মা-ইন দাফিক’ (مَّآءٍ دَافِقٍ), যার আক্ষরিক অর্থ ‘সবেগে নির্গত পানি বা তরল’। কুরআনের অন্যান্য স্থানেও “মা-ইন” শব্দ দ্বারা পানি বা তরল বোঝানো হয়েছে।
[২১:৩০] “এবং আমি পানি (মা-ই) থেকে প্রতিটি জীবন্ত সত্তাকে সৃষ্টি করেছি।”
[২:২২] “এবং তিনি আকাশ থেকে পানি (মা-আন) বর্ষণ করেছেন”
[৫৬:৬৮] “তোমরা যে পানি (মা-আ) পান করো, সে সম্পর্কে কি তোমরা ভেবে দেখেছ?”
সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে, তখন সে অ্যামনিওটিক ফ্লুইড (Amniotic fluid)-এর একটি থলিতে সুরক্ষিত থাকে। গর্ভাবস্থার শেষ দিকে শিশুসহ এই অ্যামনিওটিক থলিটি বা জরায়ুটি মায়ের পেছনের মেরুদণ্ড এবং সামনের ওপরের দিকের পাঁজরের হাড়-এর ঠিক মধ্যবর্তী বিশাল জায়গাজুড়ে অবস্থান করে। সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়ার প্রারম্ভে পানিপূর্ণ থলিটি ফেটে যায় এবং সবেগে তরল বেরিয়ে আসে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে “পানি ভাঙা” বা “Water breaking” বলা হয়। যে কারণে কুরআনে এটিকে ‘মা-ইন দাফিক’ অর্থাৎ ‘সবেগে নির্গত পানি’ বলা হয়েছে।
Quran is never wrong.
[11:01] “Alif-Lam-Ra. A Book whose verses have been perfected, then detailed from One who is Wise, All-Aware.”
