কাজিন বিয়ে করা কি নিষিদ্ধ?

[৩৩:৫০] “হে নবী! আমি আপনার জন্য বৈধ করেছি… আপনার চাচার কন্যা, ফুফুর কন্যা, মামার কন্যা ও খালার কন্যাদেরকে, যারা আপনার সাথে হিজরত করেছে… এটি বিশেষ করে আপনার জন্য, অন্য মুমিনদের জন্য নয়।”

সূরা আহযাবের এই আয়াতটি দেখে অনেকে মনে করেন, কাজিন বিয়ে করার অনুমতি কেবল নবীর জন্যই প্রযোজ্য এবং এটি তাঁর জন্য একটি বিশেষ সুবিধা (Privilege)। কিন্তু ভালোভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায়, এটি নবীর জন্য বিশেষ কোনো সুবিধা নয়; বরং এটি নবীর জন্য একটি বিশেষ বিধিনিষেধ (Restriction)।

এই আয়াতের মাধ্যমে নবীকে কেবল সেই মেয়ে কাজিনদের বিয়ে করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যারা তাঁর সাথে হিজরত করেছেন। যেসকল কাজিন নবীর সাথে হিজরত করেননি, তাদেরকে বিয়ে করার অনুমতি নবীকে দেওয়া হয়নি।

মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত করা কেবল বাসস্থান পরিবর্তন ছিল না; এটি ছিল ঈমানের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। যারা হিজরত করেছিলেন, তারা ইসলাম ও নবীর জন্য নিজেদের বাড়িঘর, সম্পদ এবং আত্মীয়স্বজন সবকিছু ত্যাগ করেছিলেন। অন্যদিকে, যারা ইসলাম গ্রহণ করার পরও মক্কায় (শত্রুদের মাঝে) থেকে গিয়েছিলেন, তাদের ঈমানের দৃঢ়তা ও আনুগত্য নিয়ে প্রশ্ন ছিল। নবীর সহধর্মিণী হওয়ার মতো সর্বোচ্চ মর্যাদার জন্য এমন কাউকে বেছে নেওয়া যৌক্তিক ছিল না, যিনি দ্বীনের জন্য এই ত্যাগটুকু স্বীকার করতে প্রস্তুত ছিলেন না।

নবীর ওপর আরোপিত এই বিশেষ বিধিনিষেধটি সাধারণ মুমিনদের জন্য প্রযোজ্য নয়। অর্থাৎ, সাধারণ মুমিনরা চাইলে হিজরত না-করা কাজিনদেরও বিয়ে করতে পারতেন।

কুরআনের সূরা নিসার ২৩ নম্বর আয়াতে কাদেরকে বিয়ে করা হারাম (মাহরাম), তার একটি সুস্পষ্ট তালিকা দেওয়া হয়েছে:

[৪:২৩] “তোমাদের জন্য হারাম করা হয়েছে তোমাদের মা, মেয়ে, বোন, ফুফু, খালা, ভাইয়ের মেয়ে, বোনের মেয়ে…”

লক্ষণীয় বিষয় হলো, নিষিদ্ধ নারীদের এই দীর্ঘ তালিকায় কাজিনদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। এর ঠিক পরের আয়াতেই (৪:২৪) বলা হয়েছে যে, এই তালিকাভুক্ত নারীদের বাইরে অন্য নারীদের বিয়ে করা হালাল।

অর্থাৎ, সাধারণ মুমিনদের জন্য নিজেদের কাজিনকে বিয়ে করা কুরআনের সাধারণ নিয়মেই সম্পূর্ণ বৈধ এবং এর জন্য হিজরতের মতো কোনো বাড়তি শর্ত পূরণ করার প্রয়োজন নেই।