১. ওযুতে কুরান বহির্ভূত নিয়ম অনুসরণ করা:
কুরানে (৫:৬ আয়তে) ওযুর চারটি ধাপ খুব নিঁখুতভাবে বর্ণনা করা হয়েছে: মুখমন্ডল ধোয়া,কনুই পর্যন্ত হাত ধোয়া, মাথা মাসাহ করা এবং টাখনু পর্যন্ত পা মাসাহ করা। এর বাইরে সুন্নত বা নফল নাম দিয়ে যেসব নিয়ম ঢুকানো হয়েছে, যেমন: প্রত্যেক অঙ্গ ৩ বার করে ধোয়া, কুলি করা, নাকে পানি দেওয়া ইত্যাদি – এগুলো সবই ইসলামে নতুন সংযোজন। কুরানে নবীর সুন্নত নামে কোনো শব্দ নেই।
২. এক ওযুতে একাধিক ওয়াক্তের নামাজ পড়া:
কুরানে কোথাও ওযু ভংগের কোনো কারণ দেয়া নেই। তাছাড়া প্রচলিত ওযু ভংগের কারণের সাথে ওযুর কোনো সম্পর্কও নেই। যেমন: প্রস্রাব-পায়খানায় যদি ওযু ভাঙে, তাহলে ওযুতে মলমূত্র ত্যাগের অঙ্গগুলো ধোয়া হয় না কেন? মূল কথা হচ্ছে ৫:৬ আয়াতে বলা হয়েছে – যখন তোমরা সালাতের জন্য দাঁড়াও তখন …… (ওযুর চারটি ধাপ)। উক্ত আয়াত থেকে বোঝা যায় কুরানের নিয়ম হলো প্রত্যেকবার সালাতে দাঁড়ানোর আগে ওযু করে নেয়া। অর্থাৎ, প্রতি ওয়াক্তের জন্য একবার করে ওযু করতে হবে।
৩. সালাতে রাকাত সংখ্যা নির্দিষ্ট করে নেয়া:
প্রচলিত নিয়ম অনুসারে ২৪৪৩৪ এই পদ্ধতিতে ৫ ওয়াক্ত নামাজের রাকাত সংখ্যা নির্ধারণ করা হয়। কিন্তু নামাজের জন্য কুরানে কোথাও রাকাত শব্দটি ব্যবহৃত হয়নি। রাকাতের ধারণা কুরান বহির্ভূত। কুরানে সালাতের তিনটি মুখ্য ধাপ বর্ণনা করা হয়েছে: কিয়াম(দাঁড়ানো), রুকু এবং সিজদা। রুকু-সিজদার এই সাইকেল যে যতবার ইচ্ছা পুনারাবৃত্ত করতে পারে। অনেকে বলে থাকে, কুরানে যেহেতু বিপদকালীন সময়ে সালাত সংক্ষিপ্ত করতে বলা হয়েছে তাই, পূর্ণাঙ্গ সালাতের ন্যূনতম রাকাতসংখ্যা হবে ২। তাদের এই ধারণা সঠিক নয়। সালাতের রাকাত সংখ্যা না কমিয়েও সালাত সংক্ষিপ্ত করা যায়। অর্থাৎ, কেউ যদি চায় একবার রুকু সিজদা দিয়েও সালাত শেষ করে ফেলতে, আবার কেউ চাইলে একাধিকবার কিয়াম,রুকু এবং সিজদা করতে পারে।
৪. নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে সালাত আদায় করা:
কোনো নামাজ মিস হয়ে গেলে প্রচলিত নিয়ম হলো অন্য কোনো ওয়াক্তে সেই নামাজ কাযা করে নেয়া। কিন্তু কুরানে কাযা নামাজ বলতে কোনো শব্দ নেই। নামাজ কাযা করার ধারণাটি কুরান বহির্ভূত। প্রত্যেক সালাত নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই আদায় করতে হবে। কোনো নামাজ বাদ পড়ে গেলে সেটা আর কাযা করার সুযোগ নেই।
৫. সুন্নত, তারাবি, তাহাজ্জুদ ইত্যাদি অতিরক্ত নামাজ:
এই সকল অতিরিক্ত নামাজের ধারণা কুরান বহির্ভূত। ফরজ সালাতের বাইরে কোনো অতিরিক্ত সালাতের বিধান কুরানে বর্ণনা করা হয়নি।
৬. সালাতে মেয়েদের মাথা ঢাকা বাধ্যতামূলক মনে করা:
কুরানে আল্লাহ কোথাও নারীদের মাথা বা চুল ঢেকে রাখতে বলেননি। সালাতেও মেয়েদের চুল ঢাকা বাধ্যতামূলক নয়। সালাতের জন্য উপযুক্ত যেকোনো ধরণের ভালো পোশাক পরে সালাত আদায় করা বৈধ।
৭. পিরিয়ড চলাকালীন মেয়েদের সালাত আদায়ে নিষেধ করা:
২:২২২ আয়াতে, পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে বিবাহিত দম্পতিকে শুধুমাত্র শারীরিক সম্পর্ক করতে নিষেধ করা হয়েছে। কুরানের কোথাও পিরিয়ড চলাকালীন সময়ে মেয়েদেরকে সালাত বা রোজা থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়নি।
৮. নামাজে তাশাহুদ পড়া:
প্রচলিত সালাতের বড় একটি ভুল হলো তাশাহুদ পাঠ করা। তাশাহুদে ‘আস-সালামুআলাইকা আইয়্যুহান্নাবিউ…’ কথাটি আছে। যার অর্থ হলো – ‘হে নবী আপনার উপর সালাম…’। কিন্তু কুরানে বলা হয়েছে মৃত ব্যক্তি কথা শুনতে পায় না। কুরানে আরো বলা আছে সালাত হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য (৬:১৬২,২০:১৪)। সালাতের মধ্যে নবীকে সম্বোধন করে সালাম উৎসর্গ করলে সেটা শিরক হবে এবং সালাত নষ্ট হয়ে যাবে। এছাড়াও নবী নিজে কখনো নিজের ওপর তাশাহুদ বা দরুদ পড়েছেন বলে মনে হয় না। তাই সালাতে কুরান বহির্ভূত এই দোয়াগুলো পড়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
৯. সুরা ফাতিহার শেষে আমিন বলা:
দোয়ার শেষে আমিন বলার নিয়মটি মূলত ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের ধর্ম থেকে গ্রহণ করা হয়েছে। কুরানে ‘আমিন’ শব্দটি শুধুমাত্র ‘বিশ্বস্ত’ ও ‘নিরাপদ’ অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। কুরানে সূরা ফাতিহার শেষে ‘আমিন’ শব্দটি উল্লেখ করা হয়নি।
১০. সালাতে শুধুমাত্র আরবিতে কুরান পড়া বাধ্যতামূলক মনে করা:
শুধুমাত্র নির্দিষ্ট একটি ভাষায় সালাতে কুরান পাঠ করতে হবে এমন কোনো নির্দেশনা কুরানে নেই। বরং, কারো যদি আরবি কম জানা থাকে তার উচিত হবে কুরানের আয়াতের অনুবাদগুলো তার নিজ ভাষায় বুঝে বুঝে পাঠ করা। কেননা, কুরানে বলা আছে – “…তোমরা সালাতের নিকটবর্তী হয়ো না, যতক্ষণ না তোমরা বুঝতে পার যা তোমরা বল…”[৪:৪৩]। তাই সালাতে কিছু না বুঝে আরবি পড়ার চেয়ে উত্তম হলো নিজ ভাষায় বুঝে বুঝে কুরানের অনুবাদ পড়া।