কত বছর বয়সে নামাজ ও রোজা ফরজ হয়?

কুরআনে সালাত ও সিয়াম ফরজ হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনো বয়সসীমা উল্লেখ করা হয়নি। ভিন্ন ভিন্ন শিশুর মানসিক ও শারীরিক পরিপক্বতা ভিন্ন ভিন্ন বয়সে অর্জিত হয়। এক্ষেত্রে মূল দায়িত্বটি হলো বাবা-মা কিংবা অভিভাবকের—তাদের খেয়াল রাখতে হবে যে কখন তাদের সন্তান এই পরিপক্বতা অর্জন করছে।

​এ বিষয়ে প্রাসঙ্গিক একটি আয়াত দেখা যাক:

[৪:৬] “আর তোমরা এতিমদের পরীক্ষা করতে থাকো, যতক্ষণ না তারা বিয়ের বয়সে পৌঁছায়। অতঃপর যদি তোমরা তাদের মধ্যে সঠিক বিচারবুদ্ধি (রুশদ) দেখতে পাও, তবে তাদের সম্পদ তাদের কাছে হস্তান্তর করো।“

​যদিও আয়াতটি সরাসরি সালাত বা সিয়ামের সাথে সম্পর্কিত নয়, তবুও আয়াতটি থেকে বোঝা যায় যে, সব শিশুর শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা একই বয়সে আসে না। আল্লাহ এখানে সুনির্দিষ্ট করে বলেননি যে, ‘এতিমরা ১৪, ১৬ বা ১৮ বছর বয়সে পৌঁছালে তবেই তাদের সম্পদ তাদের নিকট হস্তান্তর করো’। বরং বিষয়টি প্রতিটি শিশুর নিজস্ব শারীরিক ও মানসিক পরিপক্বতা অর্জনের সাথে সম্পর্কযুক্ত করা হয়েছে।

​সালাত ও সিয়ামের ক্ষেত্রেও ব্যাপারটি একই। অভিভাবকদের উচিত, সন্তান যখন মানসিকভাবে পরিপক্ব হতে শুরু করবে, তখন থেকেই তাকে সালাতে অভ্যস্ত করানো। এরপর শারীরিকভাবে কিছুটা সক্ষম ও উপযুক্ত হলে রোজা রাখার অভ্যাস করানো।

​তবে কোনোভাবেই নামাজ, রোজা বা অন্য কোনো ইবাদতের জন্য সন্তানকে মারধর বা জোর-জবরদস্তি করা যাবে না। “দ্বীনের মধ্যে কোনো জোর-জবরদস্তি নেই” — কুরআনের এই মূলনীতি প্রাপ্তবয়স্ক এবং শিশু — সবার জন্যই সমানভাবে প্রযোজ্য।

​বরং পিতা-মাতার উচিত সন্তানকে এটি শিক্ষা দেওয়া যে, কেন সালাত কায়েম করা ও আল্লাহর ইবাদত করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ; এবং আমাদের জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে কেন আল্লাহকে প্রয়োজন।