প্রশ্ন: রোজার সময় ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেললে বা পান করলে কি রোজা ভেঙে যাবে?
উত্তর: কুরআনের বেশ কয়েকটি আয়াত থেকে প্রতীয়মান হয় যে, রোজা রাখাকালীন ভুলক্রমে পানাহার করে ফেললে রোজা ভেঙে যাবে না।
১. উদাহরণস্বরূপ, আল্লাহ কুরআনের মাধ্যমে আমাদেরকে একটি দোয়া শিখিয়েছেন এইভাবে:
[২:২৮৬] “হে আমাদের রব, যদি আমরা ভুলে যাই বা ভুল করি, তবে আমাদের পাকড়াও করবেন না।”
কুরআনে বর্ণিত এই দোয়া থেকে বোঝা যায় যে, আল্লাহ আমাদেরকে আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য দায়ী বা পাকড়াও করবেন না।
২. আল্লাহ কখন মানুষকে জবাবদিহিতার আওতায় আনেন, সে ব্যাপারে একটি আয়াত দেখা যাক:
[২:২২৫] “আল্লাহ তোমাদেরকে তোমাদের অর্থহীন শপথের জন্য পাকড়াও করবেন না। কিন্তু পাকড়াও করবেন যা তোমাদের অন্তরসমূহ অর্জন করেছে তার জন্য। আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম সহনশীল।”
এখানেও দেখা যাচ্ছে, দায়বদ্ধতা নির্ভর করে কেবল অন্তরের নিয়তের ওপর। আমরা যদি রোজা রাখার সময় ভুলে কিছু খেয়ে বা পান করে ফেলি, তবে তা আমরা সিয়াম ভাঙার উদ্দেশ্য নিয়ে করিনি—তাই এমন অনিচ্ছাকৃত কাজের জন্য আমরা আল্লাহর নিকট দায়বদ্ধ থাকব না।
৩. আমরা যদি সালাত, সিয়াম, হজ্জ ও অন্যান্য ইবাদতের পদ্ধতিগুলো লক্ষ্য করি, তাহলে কয়েকটি যৌক্তিক প্রশ্ন সামনে আসা স্বাভাবিক:
● আমরা সালাতের আগে কনুই পর্যন্ত হাত ধুলাম কি ধুলাম না, তাতে কি আল্লাহর কিছু আসে যায়?
● আমরা যদি হজ্জের সময় সাফা-মারওয়ার মধ্যে হাঁটাহাঁটি না করি, তাতে কি আল্লাহর কিছু আসে যায়?
● আমরা সুবহে সাদিকের সময় রোজা শুরু করলাম নাকি সূর্যোদয়ের পর, তাতে কি আল্লাহর কিছু আসে যায়?
উপরের প্রতিটি প্রশ্নের উত্তর একই। এগুলোর কোনোটিই আল্লাহর নিকট তেমন গুরুত্ব বহন করে না। আল্লাহ ইবাদতের এই নির্দেশগুলো দিয়েছেন শুধু এটি পরীক্ষা করার জন্যই যে, আমরা তাঁর হুকুম যথাযথভাবে পালন করছি কি না। নিম্নোক্ত আয়াত থেকে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়:
[২২:৩৭] “এগুলোর গোশত ও রক্ত আল্লাহর নিকট পৌঁছায় না, বরং পৌঁছায় তোমাদের তাকওয়া।”
এখানে বলা হচ্ছে, পশু কুরবানির ক্ষেত্রে পশুর জবাই বা আনুষ্ঠানিকতাটুকু আল্লাহর কাছে মুখ্য নয়, বরং গুরুত্বপূর্ণ হলো আমাদের অন্তরের তাকওয়া।
আল্লাহর আনুগত্য ও তাকওয়া অর্জনই হলো সকল ইবাদতের মূল উদ্দেশ্য।
রোজা রেখে ভুলক্রমে কিছু খেয়ে ফেললে তা আল্লাহর প্রতি আমাদের আনুগত্যের অভাব নির্দেশ করে না। এই ভুল কেবল মানুষের স্বভাবজাত বিস্মৃতির কারণেই হয়ে থাকে। এজন্যই আল্লাহ আমাদের আশ্বস্ত করেছেন যে, আমরা ভুলে গেলে বা আমাদের অনিচ্ছাকৃত ভুলের জন্য তিনি আমাদের পাকড়াও করবেন না (২:২৮৬)।