কুরআন থেকে কোনো আয়াত হারিয়ে যায়নি। কুরআনের কোনো আয়াত বাতিল বা রহিত হয়নি।
কুরআনের বিরুদ্ধে যেসকল আভিযোগ ও আপত্তি দাঁড় করানো হয় তার মধ্যে সবচেয়ে গুরুতর দাবিটি হলো ‘কুরআনের অনেকগুলো আয়াত রহিত হয়ে গেছে’। অথচ যারা এই দাবি করে তাদের মধ্যেই সর্বসম্মত কোনো ঐক্য নেই যে কুরআনের ঠিক কতগুলো আয়াত বাতিল বা রহিত করা হয়েছে।
[২:১০৬] “কোনো আয়াত যদি আমরা রদ করি বা ভুলিয়ে দিই, তার চেয়ে উত্তম বা তার অনুরূপ নিয়ে আসি।“
উক্ত আয়াত দেখিয়ে দাবি করা হয় যে কুরআনের এক আয়াত দিয়ে আরেক আয়াত রহিত করা হয়েছে।
আবার হাদিসবিদ এবং তাফসীরকারকদের এই মতামত কাজে লাগিয়ে ইসলাম বিদ্বেষীরা দাবি করে যে কুরআনের মধ্যে কন্ট্রাডিকশন আছে!
এখানে লক্ষণীয় বিষয় হলো, উক্ত আয়াতের কোথাও কি এই কথা বলা হয়েছে যে কুরআনের এক আয়াত দিয়ে আরেক আয়াত রহিত করা হয়েছে? যদি এর আগের আয়াতটি পড়া হয় তাহলে দেখা যাবে সেখানে আহলে কিতাবদের কথা বলা আছে। অর্থাৎ, আল্লাহ যেসব আয়াত ভুলিয়ে দিয়েছেন বা রহিত করেছেন সেগুলো পূর্ববর্তী যুগের কিতাবের আয়াত।
তাছাড়া ‘আয়াত’ শব্দের অর্থ শুধু ‘কুরানিক ভার্স’ নয়। আয়াত শব্দের আরও অনেক অর্থ আছে, যেমন: চিহ্ন,নিদর্শন,বার্তা,প্রমাণ,মিরাকল ইত্যাদি। এমটাও হতে পারে উক্ত আয়াতে পূর্ববর্তী যুগের কোনো নিদর্শন বা চিহ্নের কথা বলা হয়েছে যেগুলো ভুলিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
আয়াতের শেষ অংশ ‘বা তার অনুরূপ নিয়ে আসি’ -এখান থেকে এটা পরিষ্কার যে এখানে কুরআনের কোনো আয়াত বাতিল বা রহিত করার কথা বলা হয়নি। কেননা একই কিতাবের মধ্যে একটি আয়াত বাতিল করে দিয়ে আবার একইরকম আরেকটি আয়াত নিয়ে আসার কোনো অর্থ হয় না।
হাদিসপন্থীরা বলে [৪:১৫-১৬] আয়াত দুটি রহিত করে [২৪:২] এ ব্যভিচারের শাস্তি দেয়া হয়েছে একশত বেত্রাঘাত। (শুধু তাই না, তারা এটাও দাবি করে কুরানে পাথর ছুড়ে হত্যার একটি আয়াত ছিল, যেটি পরবর্তীতে হারিয়ে গেছে, ছাগলে খেয়ে ফেলেছে!)
প্রকৃতপক্ষে [৪:১৫-১৬] আয়াত দুটিতে নারী-পুরুষ ব্যভিচারের শাস্তি বর্ণনা করা হয়নি। আয়াত দুটিতে সমকামীতার শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। [৪:১৫] আয়াতে নারী সমকামী অর্থাৎ ‘লেসবিয়ান’ আর [৪:১৬] আয়াতে পুরুষ সমকামী অর্থাৎ ‘গে’-দের শাস্তি বর্ণনা করা হয়েছে। অন্যদিকে [২৪:২] আয়াতে নারী-পুরুষ ব্যভিচারের শাস্তি উল্লেখ করা হয়েছে – একশত বেত্রাঘাত (বিবাহিত,অবিবাহিত উভয়ের জন্য)।
কুরআনের সকল আয়াত পূর্ণাঙ্গ মাত্রায় কার্যকর এবং কুরআনের মধ্যে কোনো কন্ট্রাডিকশন নেই। প্রকৃতপক্ষে, হাদিসের অনুসারীরা হাদিসের মধ্যে প্রচুর কন্ট্রাডিকশন দেখে অভ্যস্ত হওয়ায় তারা এই ‘রহিতকরণ’ বা ‘নাসেখ-মানসুখ’-এর ধারণাটি আবিষ্কার করেছে। এভাবেb তারা হাদিসের মতোই কুরআনের এক আয়াত দিয়ে আরেক আয়াত বাতিল করে দেয়।
কিন্তু আল্লাহ বলেন,
[১০:৬৪] “আল্লাহর কথায় কোনো পরিবর্তন নেই।“