পবিত্র কুরআনের কয়েকটি আয়াত বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাস পর্যন্ত ভ্রূণকে ‘ইনসান’ বা পূর্ণাঙ্গ মানবসত্তা (নফস) হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি।
১. ৩০ মাস এবং ২৪ মাসের গাণিতিক হিসাব
‘ইনসান’ বা ‘মানুষের’ জন্য কুরআনে গর্ভধারণ ও দুগ্ধদানের সময়সীমা নিয়ে দুটি সুনির্দিষ্ট তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে:
- সূরা আল-আহকাফ (৪৬:১৫): “…আর তার গর্ভধারণ ও স্তন্যপান ছাড়ানোর মেয়াদ ত্রিশ মাস…”
- সূরা লুকমান (৩১:১৪): “…এবং তার স্তন্যপান ছাড়ানো হয় দুই বছরে (চব্বিশ মাসে)…”
৩০ মাস থেকে স্তন্যদানের ২৪ মাস বাদ দিলে বাকি থাকে ৬ মাস। সুতরাং কুরআনের হিসাব অনুযায়ী, মাতৃগর্ভে একটি ভ্রূণের ‘ইনসান’ বা ‘মানুষ’ হিসেবে অবস্থানের সময়কাল হলো ৬ মাস।
সাধারণত একটি স্বাভাবিক গর্ভধারণকাল ৯ মাসের হয়ে থাকে। এই ৯ মাস থেকে কুরআনে নির্দেশিত ‘মানুষ’ বহনের ৬ মাস বাদ দিলে প্রথম ৩ মাস বাকি থাকে। অর্থাৎ, গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাস পর্যন্ত ভ্রূণটি ‘ইনসান’ বা মানুষের মর্যাদা পায় না।
২. ‘অন্য এক সৃষ্টি’ বা মানুষের রূপান্তর
উপরের ধারণাটিকে সরাসরি সমর্থন করে ভ্রূণ বিকাশ সংক্রান্ত সূরা আল-মু’মিনুনের একটি আয়াত:
- সূরা আল-মু’মিনুন (২৩:১৪): “অতঃপর আমি শুক্রবিন্দুকে জমাট রক্তে পরিণত করি, তারপর জমাট রক্তকে মাংসপিণ্ডে পরিণত করি, এরপর মাংসপিণ্ডকে হাড্ডিতে পরিণত করি এবং হাড্ডিকে মাংস দ্বারা আবৃত করি; অবশেষে আমি তাকে অন্য এক সৃষ্টিতে রূপ দান করি…”
মাংস ও হাড়ের গঠনের পর “অন্য এক সৃষ্টিতে রূপ দান” করার অর্থই হলো তার মধ্যে মানবাত্মার সঞ্চার হওয়া এবং তাকে ‘ইনসান’ হিসেবে গড়ে তোলা। অর্থাৎ, এর আগের পর্যায়গুলোতে ভ্রূণটি কোনো ‘মানবসত্তা’ বা ‘মানুষ’ ছিল না।
সিদ্ধান্ত
যেহেতু গর্ভধারণের প্রথম ৩ মাসে ভ্রূণকে কুরআনে ‘ইনসান’ বা ‘মানুষ’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি, তাই এই সময়ের মধ্যে গর্ভপাত বা অ্যাবরশন করা হলে তা মানুষ বা নফস হত্যার পর্যায়ে পড়ে না।
And Allah Knows Best.